• বৃহস্পতিবার, ০৯ ডিসেম্বর ২০২১, ১২:৫৯ অপরাহ্ন
  • ই-পেপার
শিরোনাম :
মোংলা বন্দর কর্তৃপক্ষ কর্মচারী সংঘের সাবেক সাধারণ সম্পাদক পল্টুর দূর্নীতি-অনিয়ম তদন্তের নামে সময়ক্ষেপণ, ক্ষুদ্ধ বন্দরের কর্মচারীরা বর্ণাঢ্য আয়োজনে যবিপ্রবিতে মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর জন্মদিন পালন রানীশংকৈলে তথ্য অধিকার দিবস উপলক্ষে আলোচনা সভা মোংলায় প্রধানমন্ত্রীর ৭৪ তম জন্মদিন পালন যশোরের শার্শার ডিহিতে গণহারে টিকা নিতে মানুষের উপচে পড়া ভিড় ছুরিকাঘাতের শিকার (এএসআই) পেয়ারুল ইসলাম মারা গেছেন স্বার্থপর সাধন কুমার দাস ঝিনাইদহের মোবারকগঞ্জ চিনি কল রক্ষায় প্রশংসনীয় উদ্যোগ নড়াইলে মহিলার যাবজ্জীবন কারাদন্ড!! নড়াইলে মোটর সাইকেল দুর্ঘটনায়  এসএসসি পরীক্ষার্থী নিহত
নোটিশ :
সাপ্তাহিক রেড নিউজ এ আপনাকে স্বাগতম! এখন থেকে আপনারা প্রিন্ট ভার্সনের পাশাপাশি ২৪ ঘন্টা অনলাইনে খবরা-খবর দেখতে পাবেন। আমাদের সাথেই থাকুন, ধন্যবাদ। খালি থাকা সাপেক্ষে সাংবাদিক নিয়োগ দেওয়া হবে। যোগাযোগ - ০১৭১১-০৫৯৯৮৭

ঘাপলা বাজি ও সরকারি অর্থ নয় ছয় এর মধ্যে যশোরের ভৈরব নদ খননের ৮০ শতাংশ কাজ শেষ?

মোঃ আজগার আলী / ১৭৭ বার পড়া হয়েছে
আপডেটের সময়ঃ বৃহস্পতিবার, ১৭ জুন, ২০২১

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার প্রতিশ্রুতি যশোরের ভৈরব নদ খননে ঠিকাদারের কোনো কাজ ডিজাইন মোতাবেক হয়নি। খনন অংশের সর্বত্রই ব্যাপক ঘাপলাবাজির মধ্যে হয়েছে। চলছে শুভংকরের ফাঁকি, হচ্ছে শুধু সরকারী অর্থ নয় ছয়। অথচ পাউবো কর্মকর্তারা রয়েছে নিরব দর্শকের ভূমিকায়।
পাউবোর প্রত্যক্ষ পরোক্ষ মদদে কয়েকটি মহা ক্ষমতাধর ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠান নামমাত্র নদ খনন করে কোটি কোটি টাকা হাতিয়ে নিয়েছে। গত বর্ষায় অনেক অংশের কাজ শুধু স্কেভেটর মেশিন নির্ভর হওয়ায় পানির নিচে অদৃশ্য ওই খনন শুধু মাপজোকের ব্যাসিসে বুঝে নেয়া হয়েছে। নদের পাড় কোনো অংশেই দৃশ্যমান না হলেও বিশাল অংকের টাকা তুলে দেয়া হয়েছে ঠিকাদারদের হাতে।
যশোরাঞ্চলের গণমানুষের প্রাণের দাবির মুখে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার প্রতিশ্রুতি চৌগাছার তাহেরপুর থেকে যশোর সদরের বসুন্দিয়া পর্যন্ত ভৈরব নদের ৯২ কিলোমিটার খননে ২৭২ কোটি ৮১ লাখ টাকার প্রকল্প বাস্তবায়ন করছে পানি সম্পদ মন্ত্রণালয়।পানি উন্নয়ন বোর্ড বলছে ৮০ শতাংশ কাজ শেষ হয়েছে। বাকি শুধু মাত্র ২০ শতাংশ কাজ। আর নদী সংস্কার আন্দোলন কমিটি বলছে এ সব ভাওতাবাজী।আরা নানা তালবাহানায় যশোর শহরের অংশ দৃশ্যমানও হয়নি। যদিও পাউবো নির্বাহী প্রকৌশলীর দাবি, স্বচ্ছতার সাথে কাজ এগুচ্ছে। চলতি মাস থেকেই আবার চূড়ান্ত খনন শুরু হয়েছে। কিছু স্থাপনা কাজে বিঘœ ঘটাতে পারে। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী ২০১৬ সালের ১৬ আগস্ট ‘জলাবদ্ধতা দূরীকরণ ও টেকসই পানি ব্যবস্থাপনা উন্নয়ন’ প্রকল্পের আওতায় যশোরের ভৈরব নদ পুণখনন প্রকল্পটি একনেকের সভায় পাস হয়। এই প্রকল্পে ২৭২ কোটি ৮১ লাখ টাকা অনুমোদন দেয়া হয়। ২০১৬-২০১৭ অর্থ বছরে নদী খননের কাজ শুরুর টার্গেট হাতে নেয়া হয়। খনন কাজ ১ জুলাই ২০১৭ থেকে শুরু হয়ে আগামী ২০২১ সালের মধ্যে শেষ করার টার্গেট গৃহিত হয়। তবে ঠিকাদারী জটিলতা কাটিয়ে ভৈরবের দু’পাড়ের ১শ’১৮টি কাঁচা পাকা অবৈধ স্থাপনা সরিয়ে ২০১৮ সালের মে মাসে যশোরের শহরতলীর কনেজপুরে প্রথম কোদাল ফেলে খনন শুরু হয়। ৯৬ কিলোমিটার নদ খননের জন্য ১৫ টি ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠান ৩৮টি লটে বৃহত্তর পরিসরের এ নদ খননের কাজ পায়।
যশোর মুজিব সড়কে অবস্থিত এসটি ইন্টারন্যাশনাল নামের প্রতিষ্ঠানটি পায় দু’টি লটের কাজ। একটি ভবন মেরামত ও রক্ষনাবেক্ষণ, অন্যটি পায় দু’কিলোমিটার নদ পুনঃ খনন। ঢাকার মতিঝিলের সেনাকল্যাণ ভবনে অবস্থিত ডলি কন্সট্রাকশন লিমিটেডের এসএ-এস (জেভী) নামের ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠানটি ৩ টি লটে পায় ৭ কিলোমিটার পুনঃ নদ খনন কাজ। যশোর পুরাতন কসবা মিশন পাড়া এলাকার নুর হোসেন নামে ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠানটি ৪টি লটে ১২ কিলোমিটার পুনঃ নদ খননের কাজ পায়। একই এলাকার এস এ-এমএসএ-এনএইচ (জেভী) নামে ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠানটি ১টি লটে ৪ কিলোমিটার পুনঃ নদ খননের কাজ পায়। মিশন পাড়া এলাকার এনএইচ-এমএসসি-এস এ ইউ (জেভী) নামে ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠানটি ৮টি লটে ২৮ কিলোমিটার খননের কাজ পায়। যশোর পুরাতন কসবা মিশন পাড়া এলাকার টেকনিপ কর্পোরেশন নামে ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠানটি ১টি লটে পায় ৩ কিলোমিটার খননের কাজ। যশোর পুরাতন কসবা মিশনপাড়া এলাকার কপোতাক্ষী এন্টারপ্রাইজ নামে ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠানটি ৪টি লটে পায় ১১ কিলোমিটার খনন কাজ। পুরাতনকসবা বিবি রোড এলাকার রেজা এন্টারপ্রাইজ নামে ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠানটি ১টি লটে পায় ৩ কিলোমিটার কাজ। এসএস এবং এম টি (জেভী) নামে ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠানটি ২টি লটে পায় ৫ কিলোমিটার কাজ। যশোর পুরাতনকসবা ১৯২ কাজীপাড়া এলাকার শামীম চাকলাদার নামে ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠানটি ৩টি লটে ৯ কিলোমিটার খননের কাজ পায়। যশোর পুরাতন কসবা মিশন পাড়া এলাকার এম টি এন্ড এস এস কনসোর্টিয়াম নামে ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠানটি ২টি লটে পায় ৬ কিলোমিটার পুনঃনদ কাজ। সাতক্ষীরার ইটাগাছা এলাকার শেখ আশরাফ উদ্দিন নামে ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠানটি ১টি লটে পায় ২ কিলোমিটার কাজ। খুলনা ক্রস রোড-২, ৩৭ দক্ষিণ টুটপাড়া এলাকার শামীম আহসান নামে ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠানটি ৩টি লটে পায় ৭ কিলোমিটার খনন কাজ। খুলনা ১৮ গগন বাবু রোড (২য় লেন) এলাকার আমিন এন্ড কোং নামে ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠানটি ৩টি লটে পায় ১০ কিলোমিটার কাজ পায়। চুয়াডাঙ্গার জীবন নগরের জাকাউল্লাহ এন্ড ব্রাদার্স নামে ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠানটি ১টি লটে পায় ৩ কিলোমিটার পুনঃ নদ খননের।কাজসূত্র জানায়, ৯৬ কিলোমিটারের মধ্যে যশোর শহরের ৪ কিলোমিটারসহ ১০ কিলোমিটারের কাজ দৃশ্যত হয়নি। শহরতলীর ডাকাতিয়া বোলপুর বাহাদুরপুর কনেজপুর ও চৌগাছার তাহেরপুর অংশ ও ঝুমঝুমপুর নীলগঞ্জ থেকে শুরু হয়ে রাজারহাট রুপদিয়া বসুন্দিয়া ঘোড়াগাছি পর্যন্ত ইতিমধ্যে খনন কাজ শেষ হয়েছে বলে পানি উন্নয়ন বোর্ড দাবি করেছে। তবে ওই সব অংশে কাজ ডিজাইন অনুযায়ী দৃশ্যমান হয়নি। গত বর্ষায় অনেক অংশের কাজ শুধু স্কেভেটর মেশিন নির্ভর হওয়ায় পানির নিচে অদৃশ্য ওই খনন শুধু মাপজোকের ব্যাসিসে বুঝে নেয়া হয়েছে। নদের পাড় কোনো অংশেই দৃশ্যমান না হলেও বিশাল অংকের টাকা তুলে দেয়া হয়েছে ঠিকাদারদের হাতে।
ভৈরব নদ সংস্কার আন্দোলন কমিটির নেতৃবৃন্দের দাবি, এ অঞ্চলের জনগণের দীর্ঘদিনের আন্দোলন-সংগ্রামের ফসল ভৈরব নদ খনন প্রকল্প। যশোরের মানুষের স্বপ্ন, নদটি সংস্কার হলে নদের যৌবন ফিরে পাবে। নদটিতে আবরো নৌকা চলবে। কিন্তু সঠিকভাবে কাজ না হওয়ায় নদে নৌকা চলা তো দুরের কথা, সঠিকভাবে পানির প্রবাহও চলবে না। পাউবোর প্রত্যক্ষ পরোক্ষ মদদে কয়েকটি মহা ক্ষমতাধর ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠান নামমাত্র নদ খনন করে কোটি কোটি টাকা হাতিয়ে নিয়েছে।
ভৈরব নদ সংস্কার আন্দোলন কমিটি সরকারের উচ্চ পর্যায়ের কাছে জোর দাবি করেছেন, খনন কাজটি যথাযথ তদারকি করে কাজ বুঝে নিতে হবে। সিডিউল ব্যত্যয় ঘটলে বিল আটকে দেয়াসহ সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়ার দাবি ওই কমিটির।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এ জাতীয় আরো সংবাদ