• বৃহস্পতিবার, ০৯ ডিসেম্বর ২০২১, ১২:৪৮ অপরাহ্ন
  • ই-পেপার
শিরোনাম :
মোংলা বন্দর কর্তৃপক্ষ কর্মচারী সংঘের সাবেক সাধারণ সম্পাদক পল্টুর দূর্নীতি-অনিয়ম তদন্তের নামে সময়ক্ষেপণ, ক্ষুদ্ধ বন্দরের কর্মচারীরা বর্ণাঢ্য আয়োজনে যবিপ্রবিতে মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর জন্মদিন পালন রানীশংকৈলে তথ্য অধিকার দিবস উপলক্ষে আলোচনা সভা মোংলায় প্রধানমন্ত্রীর ৭৪ তম জন্মদিন পালন যশোরের শার্শার ডিহিতে গণহারে টিকা নিতে মানুষের উপচে পড়া ভিড় ছুরিকাঘাতের শিকার (এএসআই) পেয়ারুল ইসলাম মারা গেছেন স্বার্থপর সাধন কুমার দাস ঝিনাইদহের মোবারকগঞ্জ চিনি কল রক্ষায় প্রশংসনীয় উদ্যোগ নড়াইলে মহিলার যাবজ্জীবন কারাদন্ড!! নড়াইলে মোটর সাইকেল দুর্ঘটনায়  এসএসসি পরীক্ষার্থী নিহত
নোটিশ :
সাপ্তাহিক রেড নিউজ এ আপনাকে স্বাগতম! এখন থেকে আপনারা প্রিন্ট ভার্সনের পাশাপাশি ২৪ ঘন্টা অনলাইনে খবরা-খবর দেখতে পাবেন। আমাদের সাথেই থাকুন, ধন্যবাদ। খালি থাকা সাপেক্ষে সাংবাদিক নিয়োগ দেওয়া হবে। যোগাযোগ - ০১৭১১-০৫৯৯৮৭

মাধবপুরে সরকারি জমি দখল করে মার্কেট নির্মাণ দেখার যেন কেউ নেই

 লিটন পাঠান, হবিগঞ্জ জেলা প্রতিনিধি / ১২৬ বার পড়া হয়েছে
আপডেটের সময়ঃ রবিবার, ২০ জুন, ২০২১

হবিগঞ্জের মাধবপুর উপজেলার বাণিজ্যিক এলাকা সিএন্ডবি রোডে পূর্ব দিকে কয়েক কোটি টাকার সরকারি জমি দখল করে মার্কেট নির্মাণের অভিযোগ উঠেছে মোঃ দৌলত মোল্লার বিরুদ্ধে। মোল্লার দখলাধীন সাইনবোর্ড টাঙিয়ে দ্রুতগতিতে চলছে ওই মার্কেট নির্মাণের কাজ তার ক্রয়কৃত ২৭ শতক ভূমি ক্রয় করে বাকী খাস ভূমি বন্দোবস্ত এনে মার্কেট নির্মাণ করতে গিয়েই দখল করা হয়েছে ওই সরকারি জমি। এ ব্যাপারে সরকারের বিভিন্ন দপ্তরে অভিযোগ করা হলেও বন্ধ হয়নি মার্কেট নির্মাণ। বরঞ্চ নির্মাণ প্রশ্নে ভূমি দপ্তরের নকশা ম্যাপ পর্যন্ত পালটে ফেলার অভিযোগ উঠেছে মোল্লার বিরুদ্ধেও সবচেয়ে বিস্ময়ের ব্যাপার হচ্ছে আলোচ্য সম্পত্তি নিয়ে মোল্লার দীর্ঘদিন ধরে মামলা চলছে। তারপরও থেমে নেই মোল্লার মার্কেট নির্মাণের কাজ। বিগত সাবেক মেয়র হিরেন্দ্র লাল সাহার সময়ে বিরোধপূর্ণ ওই জমিতে মার্কেট নির্মাণের প্ল্যান অনুমোদন করেন সড়ক ও জনপথ বিভাগের। প্ল্যান অনুমোদনের এক বছরের মধ্যে মার্কেট নির্মাণ শুরু করার সরকারি বিধান থাকলেও প্রশ্নবিদ্ধ ওই প্ল্যানেই ২০১৯ সালের শেষের দিকে মার্কেট নির্মাণ শুরু করেন মোল্লা। যদিও এসব অভিযোগের কোনোটিই স্বীকার করেননি তিনি তার দাবি একটি মহল তার জমি আত্মসাতের উদ্দেশ্যে এসব মিথ্যা অভিযোগ করছে। বৈধভাবে কেনা জমিতেই তিনি ভবন নির্মাণ করছেন এবং সরকারি কোনো সম্পত্তি তিনি দখল করেননি। তখনকার সময়ে হবিগঞ্জ জেলা জজ আদালত কর্তৃক মোল্লার দখলকৃত ভুমিতে গাড়ী রাখার টার্মিনাল দেওয়া হলেও তেমন কোন তোরজোর নেই টার্মিনাল কর্তৃপক্ষের মোল্লা স্থানীয় লোকদের প্রভাব খাটিয়ে সেখানে গাড়ী পার্কিং থেকে বিরত রাখেন। তখন হবিগঞ্জ জেলা মটর মালিক গ্রুপের শ্রমিকদের সাথে মোল্লার লোকজনের হাতাহাতি হয়। পরে মোল্লা জোরপূর্বক গাড়ী সরিয়ে হট, বালু দিয়ে জায়গা ভরাট করে ফেলে এবং হবিগঞ্জ জেলা মটর মালিক গ্রুপের মালিক সমিতির সাধারণ সম্পাদক জয়কুমার ভদ্র বলেন, মোল্লা যে খাসভুমি দখল করে আছেন সেখানে গাড়ী টার্মিনাল গড়ে তুললে হাইওয়ে রোডের উপর গাড়ী রাখতে হতো না। বর্তমানে উক্ত জায়গাটি দখল করার কারণে গাড়ীগুলো হাইওয়ে রাস্তায় দাড়িয়ে যাত্রী উঠানামা করাতে হচ্ছে। এতে করে বাস, ম্যাক্সি মালিক সমিতিগুলো নানান হুমকির মধ্যে রয়েছে। শুধু তাই নয় যাত্রী পারাপারেও তাদের অসুবিধার সম্মুখীন হতে হচ্ছে। অবৈধভাবে প্ল্যান অনুমোদনসহ মার্কেট নির্মাণ প্রশ্নে একটি অভিযোগ দাখিল হলে বিষয়টি তদন্তের সিদ্ধান্ত নেয় মেয়র সে অনুযায়ী তদন্ত দাখিল করা রিপোর্টে উল্লেখ করা হয় যে, অনুমোদন হওয়া প্ল্যানে যে জমিতে মার্কেট নির্মাণ করা হচ্ছে সেই জমিতে বাংলাদেশ সরকারের পক্ষে সাবেক জেলা প্রশাসক মোঃ কামরুল হাসান’র সরকারি জমি রয়েছে নির্মাণাধীন মার্কেটের সামনের খালি জমি এবং সামনের কয়েকটি দোকান মার্কেট এর মাধ্যমে ওই জমি দখল করা হয়েছে। ধারণা করা হচ্ছে যে মার্কেট নির্মাণের শুরুতেই তার খান জমির দক্ষিণ দিকে একটি সরকারি পুকুর রয়েছে। সেদিকেও তার কুদৃষ্টি ফেলে রেখেছে। শুরুতেই সামনের সড়ক ও জনপথ বিভাগের জায়গা ভরাট করে তা দখলে নিয়েছেন মোল্লা এই সময়ে কোনো অস্তিত্ব বর্তমান সময়ের কোনো কাগজপত্রে পাওয়া যাচ্ছে না শুধু মার্কেট ভবনের তদন্ত রিপোর্টেই নয়, ২০১৯ সালে সাবেক মাধবপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোখলেছুর রহমান অফিস থেকে এক সার্ভেয়ারের দেওয়া এরিয়া ম্যাপেও আলোচ্য দাগে সুস্পষ্টভাবে সরকারি ভিপি সম্পত্তি এবং সরকারি খাস ভুমির জায়গা উল্লেখ রয়েছে। তদন্ত প্রতিবেদনের পাশাপাশি ভূমি অফিস থেকে সংগ্রহ করা অনুলিপিতেও মিলেছে নির্মাণাধীন মার্কেটের জমিতে সড়ক ও জনপথের জমির অস্তিত্ব। যার সরকারি পরিমাণ আনুমানিক ৫৬ শতক। যার বাজার মূল্য প্রতি শতক প্রায় ১০ লক্ষ টাকার উপরে এই জমির মূল্য প্রায় সাড়ে ৫ কোটি টাকা। এসব বিষয় নিয়ে আলাপকালে আলোচ্য জমির মালিক দৌলত মোল্লা বলেন, এটা আমার কেনা বৈধ সম্পত্তি। ওই জমিতে কোনো সরকার সম্পত্তি কিংবা সড়ক ও জনপথের কোন জায়গা নেই। আমার কাছে এ সংক্রান্ত সব কাগজপত্র আছে। এখানে আমার জমিতে কারো কোনোরকম বৈধ মালিকানা নেই। তারপরও সে একের পর এক মামলা আর অভিযোগ দিয়ে যাচ্ছে তার বিরুদ্ধে। তবু ঝামেলা পাকানো থেকে তাকে বিরত রাখেনি। দৌলত মোল্লা জানান, সব কিছু দেখেশুনেই আমরা এখানে মার্কেট নির্মাণ করছি তাছাড়া মালিকানা বিষয়ে চলমান মামলা এখনো বিচারাধীন এখানে জমির মালিকানা কিংবা সরকারি জমি দখলের অভিযোগ পুরোপুরি মিথ্যা। এ বিষয়ে সাবেক হবিগঞ্জ জেলা প্রশাসক কামরুল হাসান বলেন, সরকারি সম্পত্তি দখলের কোনো সুযোগ কাউকে দেওয়া হবে না আমি ২/১ দিনের মধ্যেই সেখানে এসিল্যান্ড এবং সার্ভেয়ারসহ ভিপি শাখার লোকজনকে পাঠাব তারা তদন্ত করে দেখবে যে সেখানে সরকারি সম্পত্তি দখল করা হয়েছে কিনা। যদি দখল করা হয়ে থাকে তা দখল মুক্ত করার পাশাপাশি প্রয়োজনীয় সব আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। এ ব্যাপারে মাধবপুর ট্রাফিক জোনের ইন্সপেক্টর মোঃ বিল্লাল খান জানান, যদি নির্দিষ্ট জায়গায় টার্মিনাল গঠন করা হতো তাহলে আমাদেরকে এতটা হিমসিম খেতে হতো না একদিকে যেমন হাইওয়ে রাস্তা গাড়ী থেকে যাত্রী উঠানামা ও ট্রাক বা ভ্যান থেকে মালামাল লোড-আনলোড করা সহ বিভিন্ন বিষয়ে সমস্যার সম্মুখীন হতে হচ্ছে। তিনি আরো ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের নিকট জোর দাবি জানাচ্ছেন যদি নির্দিষ্ট জায়গায় টার্মিনাল গঠন করা হয় তাহলে ট্রাফিক আইন যথাযথভাবে পালন করা সম্ভব হবে ও সড়ক ও জনপথ বিভাগে কোন যানজট সৃষ্টি হবে না।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এ জাতীয় আরো সংবাদ