• বৃহস্পতিবার, ০৯ ডিসেম্বর ২০২১, ০১:৫৪ অপরাহ্ন
  • ই-পেপার
শিরোনাম :
মোংলা বন্দর কর্তৃপক্ষ কর্মচারী সংঘের সাবেক সাধারণ সম্পাদক পল্টুর দূর্নীতি-অনিয়ম তদন্তের নামে সময়ক্ষেপণ, ক্ষুদ্ধ বন্দরের কর্মচারীরা বর্ণাঢ্য আয়োজনে যবিপ্রবিতে মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর জন্মদিন পালন রানীশংকৈলে তথ্য অধিকার দিবস উপলক্ষে আলোচনা সভা মোংলায় প্রধানমন্ত্রীর ৭৪ তম জন্মদিন পালন যশোরের শার্শার ডিহিতে গণহারে টিকা নিতে মানুষের উপচে পড়া ভিড় ছুরিকাঘাতের শিকার (এএসআই) পেয়ারুল ইসলাম মারা গেছেন স্বার্থপর সাধন কুমার দাস ঝিনাইদহের মোবারকগঞ্জ চিনি কল রক্ষায় প্রশংসনীয় উদ্যোগ নড়াইলে মহিলার যাবজ্জীবন কারাদন্ড!! নড়াইলে মোটর সাইকেল দুর্ঘটনায়  এসএসসি পরীক্ষার্থী নিহত
নোটিশ :
সাপ্তাহিক রেড নিউজ এ আপনাকে স্বাগতম! এখন থেকে আপনারা প্রিন্ট ভার্সনের পাশাপাশি ২৪ ঘন্টা অনলাইনে খবরা-খবর দেখতে পাবেন। আমাদের সাথেই থাকুন, ধন্যবাদ। খালি থাকা সাপেক্ষে সাংবাদিক নিয়োগ দেওয়া হবে। যোগাযোগ - ০১৭১১-০৫৯৯৮৭

বদলগাছীতে লাইসেন্সবিহীন জমজমাট ফার্মেসি ব্যবসা যেন দেখার কেউ নেই

রহমতউল্লাহ নওগাঁ প্রতিনিধি / ১২৫ বার পড়া হয়েছে
আপডেটের সময়ঃ শনিবার, ২৬ জুন, ২০২১

নওগাঁর বদলগাঁছীর উপজেলার বিভিন্ন বাজারের অলিগলিতে ব্যাঙের ছাতার মতো গড়ে উঠেছে ক্ষুদ্র ও মাঝারি আকারের ফার্মেসি বা ঔষধের দোকান। ঔষধ প্রশাসনের নিয়মনীতির তোয়াক্কা না করে উপজেলার বিভিন্ন বাজারে অনেকেই ফার্মেসি দিয়ে বসেছেন ঔষধ বিক্রির ব্যবসায়। এসব ফার্মেসি চিকিৎসকের ব্যবস্থাপত্র ছাড়াই উচ্চমাত্রার অ্যান্টিবায়োটিক, নিষিদ্ধ ভারতীয় সেক্সুয়াল ও নিম্নমানের নানা ধরনের ঔষধ বিক্রি করছে অবাধে। এ ছাড়া নেই কোনো প্রশিক্ষিত ফার্মাসিস্ট। ফলে রোগ নিরাময়ের পরিবর্তে আরও জটিল রোগে আক্রান্ত হচ্ছেন রোগীরা। এতে আর্থিক, শারীরিক ও মানসিক ক্ষতির সম্মুখীন হয়ে বিপদগ্রস্ত হয়ে পড়েছেন অনেক রোগী ও তাদের পরিবার-পরিজন।বদলগাঁছী উপজেলার ( ৮)টি ইউনিয়নের বাজারে গড়ে উঠেছে ফার্মাসিস্ট, প্রশিক্ষণ ছাড়া ও ড্রাগ লাইসেন্সবিহীন শত শত ফার্মেসি। ফলে সাধারণ মানুষ প্রতিনিয়ত অপচিকিৎসার শিকার হচ্ছেন। বিশেষ করে,গোঁবর চাঁপা ভাণ্ডার পুর পাহার পুর খাদাইল ভেরেন্ডী বাজার হতে সাগরপুর বাজার, তবে উল্লেখিত বাজার গুলোর মধ্যে মিঠাপুর বাজারে সবচেয়ে বেশী পরিলক্ষিত হয়েছে।
অনুসন্ধানে দেখা গেছে মিঠাপুর ও খাদাইল একটি দোকানে রেজিস্টার্ড চিকিৎসক ছাড়াই ঐ এলাকার শিশু, বৃদ্ধ, যুবক, এমনকি অন্তঃসত্তাদের চিকিৎসা দেওয়া হয়। এ সুযোগ কাজে লাগিয়ে আঙ্গুল ফুলে কলা গাছ বনে যাচ্ছেন ওইসব ফার্মেসি মালিকগুলো। কারণ ঐ এলাকার সাধারণ মানুষ রেজিস্টার্ড চিকিৎসকের কাছে আসেন না। তারা তাদের পার্শ্ববর্তী মিঠাপুর বাজারের ফার্মেসির শরণাপন্ন হয়ে রোগের বর্ণনা দিয়ে ওষুধ নেন। এ সুযোগকে কাজে লাগাচ্ছে ফার্মেসিগুলো। ফার্মেসিগুলো চিকিৎসকের ব্যবস্থাপত্র ছাড়াই উচ্চমাত্রায় এজিথ্রোমাইসিন অ্যান্টিবায়োটিক, ঘুমের ট্যাবলেট ও যৌন উত্তেজক ট্যাবলেট, নিষিদ্ধ, ভারতীয়, নকল, মেয়াদোত্তীর্ণ ও নিম্নমানের নানা ধরনের ঔষধ অবাধে বিক্রি করে আসছে। শুধু তাই মুথরাাপুর ইউনিয়নের মিঠাপুর ইউনিয়নের বাজারে মুদি দোকানে অবাদে বিক্রি হচ্ছে ভারতীয় নিষিদ্ধ যৌন উত্তেজক ঔষধ যার ফলে একদিকে যেমন ঔষধ ব্যবসায়ীরা হাতিয়ে নিচ্ছে লাখ লাখ টাকা। অন্যদিকে সাধারণ ক্রেতারা প্রতারিত হওয়ার পাশাপাশি বাড়ছে স্বাস্থ্যঝুঁকি। ওষুধ নিয়ন্ত্রণ আইন ১৯৪০ অনুসারে কারও ঔষধের দোকান বা ফার্মেসি দেওয়ার ক্ষেত্রে তাকে প্রথমেই কমপক্ষে ছয় মাসের ফার্মাসিস্ট কোর্স করে সনদ সংগ্রহ করতে হবে। পরে সংশ্নিষ্ট ড্রাগ সুপারের কার্যালয়ে ফার্মাসিস্ট সনদ জমা দিয়ে ড্রাগ লাইসেন্সের জন্য আবেদন করতে হবে। ড্রাগ নিয়ন্ত্রণ অধ্যাদেশ ১৯৮২-এর ৪ নম্বরের ১৩ নম্বর ধারায় ‘ফার্মাসিস্টদের নিয়োগ’ শিরোনামে উলেল্গখ আছে, কোনো খুচরা বিক্রেতা বাংলাদেশ ফার্মেসি কোনো রেজিস্ট্রারের রেজিস্ট্রিভুক্ত ফার্মাসিস্টদের তত্ত্বাবধান ছাড়া কোনো ঔষধ বিক্রি করতে পারবে না। কিন্তু এ নিয়মের তোয়াক্কা না করেই ঔষধ বিক্রি হচ্ছে এসব ফার্মেসিতে। কয়েকজন সচেতন ক্রেতার সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, এখন ফার্মেসিতে আর বিশেষজ্ঞ লোকের দরকার হয় না। ঔষধ কোম্পানির রিপ্রেজেন্টেটিভরা বলে দেন কোন ঔষধ কী কাজে লাগে- সেই অনুযায়ী ঔষধ বিক্রি হয়। এ ছাড়া অনেক ঔষধের দোকানে নিম্নমানের ঔষধ কোম্পানির রিপ্রেজেন্টেটিভরা ঔষধ বিক্রি করে দেন। ভেজাল ও নিম্নমানের ঔষধ বিক্রির ক্ষেত্রে ভালোমানের ঔষধের চেয়ে ৪০ থেকে ৫০ শতাংশ বেশি কমিশন নেওয়া হচ্ছে। এতে বেশি লাভের আশায় ভেজাল ও নিম্নমানের ঔষধ বিক্রিতে বেশি আগ্রহী হচ্ছেন ঔষধ ব্যবসায়ীরা। সাধারণ মানুষও কোন ঔষধটি আসল ও কোনটি ভেজাল তা চিহ্নিত করতে অপারগ। এর ফলে এ ভেজাল ও নিম্নমানের ঔষধের বাণিজ্য দিন দিন জমজমাট হচ্ছে। আর স্বাস্থ্যঝুঁকিতে পড়ছেন সাধারণ মানুষ।বদলগাঁছী উপজেলার অবৈধ ফার্মেসিগুলো সাধারণ মানুষের অজ্ঞতার সুযোগ নিয়ে অপেক্ষাকৃত কম মূল্যের ভেজাল ঔষধ বেশি মূল্যে বিক্রি করছে, যা রোগ নিরাময়ের পরিবর্তে উল্টো নানা উপসর্গের সৃষ্টি করছে। এ ছাড়া অসচেতন রোগীদের চিকিৎসকের প্রেসক্রিপশনে উল্লিখিত ঔষধের একই গ্রুপের নিম্নমানের ঔষধ সরবরাহ করার অভিযোগ উঠেছে।
এ বিষয়ে নওগাঁ সুপারভাইজার ডাঃ সামছুল এর সাথে কথা হলে তিনি বলেন, ড্রাগ লাইন্সেন ও ফার্মাস্টিস সনদ ছাড়া কোন ঔষধের দোকান বা ফার্মেসি ব্যবসা করা যাবে না। লাইন্সেন বিহীন সকল ফার্মেসিগুলোতে দ্রুত আইনগত ব্যাবস্থা গ্রহন করা হবে।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এ জাতীয় আরো সংবাদ